Showing posts with label সুভাষ মুখোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label সুভাষ মুখোপাধ্যায়. Show all posts

November 16, 2011

ফুল ফুটুক না ফুটুক | সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
********************

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত
শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে
তারপর খুলে -
মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে
তারপর তুলে -
যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে
যেন না ফেরে।
গায়ে হলুদ দেওয়া বিকেলে
একটা দুটো পয়সা পেলে
যে হরবোলা ছেলেটা
কোকিল ডাকতে ডাকতে যেত
- তাকে ডেকে নিয়ে গেছে দিনগুলো।
লাল কালিতে ছাপা হলদে চিঠির মত
আকাশটাকে মাথায় নিয়ে
এ-গলির এক কালোকুচ্ছিত আইবুড়ো মেয়ে
রেলিঙে বুক চেপে ধ’রে
এই সব সাত-পাঁচ ভাবছিল -
ঠিক সেই সময়
চোখের মাথা খেয়ে গায়ে উড়ে এসে বসল
আ মরণ ! পোড়ারমুখ লক্ষ্মীছাড়া প্রজাপতি !
তারপর দাড়ম করে দরজা বন্ধ হবার শব্দ।
অন্ধকারে মুখ চাপা দিয়ে
দড়িপাকানো সেই গাছ
তখন ও হাসছে।

November 15, 2011

আলালের ঘরের দুলাল | সুভাষ মুখোপাধ্যায়

আলালের ঘরের দুলাল
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
*******************

বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেব কিসে
পায়ে শিকল দিয়ে কোকিল
মরছে কেশে কেশে

এ গাঁয়েতে বান তো
ও গাঁয়েতে খরা
যে করে হোক আখেরে ভোট
ভাতের টোপে ধরা

নীচেয় থাকে হাবা বোবা
ওপরতলায় কালা
কাজের জন্যে মানুষ হন্যে
দরজাগুলোয় তালা

এই এটাকে চেয়ারে বসা
ওই ওটাকে হটা
সামনে পুলুশ পিছনে জুলুশ
তবে না ঘটাপটা

খুনখারাবি রং বুলিয়ে
মন ভুলিয়ে ঝান্ডায়
চাইবে গদি না দাও যদি
ঠান্ডা করবে ডান্ডায়

বাড়ির পর বাড়ি রে ভাই
গাড়ির পর গাড়ি
আপনজনে পরের ধনে
চালাচ্ছে পোদ্দারি

পার্ক ময়দানে জলা জমি
হাত করছে টাকার কুমির
ছিল নাকে কপর্দকও, তোমন লোকও
লাল হয়ে আজ হচ্ছে আমির
বাইরে চটক ভেতরে ফাঁপা
কতদিন আর থাকবে চাপা

হাটে ভাঙছে হাঁড়ি এখন পর পর
একটু যদি দাঁড়ান ঘুরে
দেখতে পাবেন রাজ্য জুড়ে
বেঁধে যায় কি চব্বর

ছাড়ায় সীমা সহ্যের
এতদিন যা হয়ে এসেছে
এসব আজ তার জের ||

November 12, 2011

লোকটা জানলই না | সুভাষ মুখোপাধ্যায়

লোকটা জানলই না
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
**********************

বাঁ দিকের বুক পকেটটা সামলাতে সামলাতে
হায়! হায় ! লোকটার ইহকাল পরকাল গেল !
অথচ আর একটু নীচে হাত দিলেই
সে পেতো আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ,
তার হৃদয় !
লোকটা জানলোই না !
তার কড়ি গাছে কড়ি হল ।
লক্ষ্মী এল রণ-পায়ে
দেয়াল দিল পহাড়া
ছোটলোক হাওয়া যেন ঢুকতে না পারে !
তারপর একদিন
গোগ্রাসে গিলতে গিলতে
দু'আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে-
কখন খসে পড়েছে তার জীবন-
লোকটা জানলই না !

সুখটান | সুভাষ মুখোপাধ্যায়

সুখটান
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
*******************

বাঁচার গর্বে
মাটিতে তার পা পড়ছিল না ব'লে

গান গাইতে গাইতে
আমরা তাকে সপাটে তুলে দিয়ে এলাম
আগুনের দোরগোড়ায়

লোকটার জানা ছিল কায়কল্পের জাদু
ধুলোকে সোনা করার
ছুঁ-মন্তর

তাঁর ঝুলিতে থাকত
যত রাজ্যের ফেলে-দেওয়া
রকমারি পুরনো জিনিস
যখন হাত ঢুকিয়ে বার করত
কী আশ্চর্য
একেবারে ঝকঝকে নতুন

লোকটা ছিল নিদারুণ রসিক
পাড়-ভাঙ্গা নদীর মতন রাস্তায়
বরবেশে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল
ফুলশয্যার গাড়িতে
তখনও ঠোটের কোনে লাগিয়ে রেখেছিল
জীবনের সুখটান

যাবার সময় আমরা ঢেকে দিয়েছিলাম
তাঁর হাতের শেকল-ভাঙ্গার দাগ
সারা গায়ের হাজারটা কালশিটে
মালায় টান পড়ায়
ঢাকা যায়নি শুধু
ক'দিন আগে মার খাওয়ার
একটা দগদগে চিহ্ন

সেটা ঢাকবার জন্য মালা একটা এসেছিল বটে
কিন্তু আগুনের আবার ফুল সয় না ব'লে
সব মালাই তখন খুলে ফেলা হয়েছিল

মালা একটা এসেছিল বটে

কিন্তু
খুব দেরিতে

মালা এসেছিল
কিন্তু
মানুষ আসেনি

মানুষটা নাকি অন্ধকারে কলম ডুবিয়ে
'বাঙালীর ইতিহাস অন্তিমপর্ব'
লেখায় অসম্ভব ব্যস্ত ছিল।।